বরিশাল ম্যারাথন

  • ৪৬৫

 

বরিশাল ম্যারাথন লোগো

বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে, মানুষের শরীর দৌড়ানোর জন্য উপযুক্ত নয়। সর্বোপরি, মানুষ দু’পেয়ে প্রাণী; চিতা, বনবিড়াল, হরিণ ছাড়াও প্রাণী জগতের অন্যান্য দ্রুতগতি সম্পন্ন জন্তুদের মতো চার পায়ে দৌড়ানোর সুবিধা মানুষের নেই। তাছাড়া, সময়ের সাথে সাথে মানবজাতি বেশ বিকশিত হয়েছে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় অগ্রসরের পরিমাণ এত বেশি যে, দ্রুত হাঁটা-চলার পরিমাণ বেশ কম বললেই চলে। লম্বা দূরত্বের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ট্রেন, অটোমোবাইল, এরোপ্লেন সহ নানা ধরনের যান-বাহনের সুবিধা তো আছেই। এমনকি, দুই ঘর দূরত্বের প্রতিবেশী, সহপাঠী, সহকর্মীরাও প্রয়োজনে একে অপরের কাছে না গিয়ে ফোন-কল, টেক্সট-মেসেজ, ই-মেইল সহ নানা সুবিধার মাধ্যমে কথাবার্তা সেরে নেয় খুব সহজেই।

তবে পৃথিবীর পুরো জনসংখ্যার একটি অংশ উপরোক্ত মতবাদকে ভুল প্রমাণ করে লম্বা দূরত্বের দৌড়ে নিজেদের সম্পৃক্ততাকে এতটাই উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে যে, ৪২.২ কিলোমিটার টানা দৌড়ানোর মতো যন্ত্রণাদায়ক কাজটি তারা করে যাচ্ছে আনন্দে সাথে। কেউ কেউ আবার এই দূরত্ব টপকিয়ে নাম লেখাচ্ছে পঞ্চাশ কিলোমিটারের ঘরে, কেউ আবার একশত কিলোমিটার ছাড়িয়ে একশত মাইল, এমনকি আটচল্লিশ ঘণ্টা থেকে ছয়দিনের দৌড়ে অংশগ্রহণ করে পাড়ি দিচ্ছে শত শত মাইল। মানুষের মাঝে এই প্রাণোচ্ছল, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, সহজেই ভেঙে না পড়া অংশটিই পৃথিবীব্যাপী ‘ম্যারাথনার’ হিসেবে এবং দূরপাল্লার দৌড়ের এই ইভেন্টটি ‘ম্যারাথন’ হিসেবে আজ বহুল পরিচিত।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই ম্যারাথন বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে ম্যারাথন আয়োজন খুব সীমিত হলেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অনেক শহরেই ছোট পরিসরে গত কয়েক বছর ধরে ম্যারাথন আয়োজিত হচ্ছে এবং দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ম্যারাথন যে শুধু শারীরিক সক্ষমতাকেই বৃদ্ধি করে তা নয়, বরং মানসিক বিকাশেও এর গুরুত্ব রয়েছে। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে ঐক্য-শৃঙ্খলাবোধ-সম্প্রীতি গড়ে তুলতে ম্যারাথনের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই কসমিক কালচার ২০২০ সালে প্রথমবারের মতে বরিশাল শহরে ম্যারাথন আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কসমিক কালচার মনে করে মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এবং সামাজিক সৃজনশীলতা বিকাশে পারষ্পরিক ঐক্য-সম্প্রীতি-সহভাগিতা প্রকাশের একটি মাধ্যম ম্যারাথন। এখানে মানুষ নিজেদের বৈচিত্র্যতার মাঝেও ঐক্যেতানে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবে, যা আমাদের আগামীর সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরিতে অনুপ্রাণিত করবে। পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে ম্যারাথন আয়োজনের মাধ্যমে বরিশালের ঐতিহ্য-সংষ্কৃতি সম্পর্কে অন্যদের জানতে সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে।

বরিশাল ম্যারাথন আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.barishalmarathon.com