নীলস বোর

নীলস বোর১.
কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় একবার প্রশ্ন এসেছিল, ‘একটি ব্যারোমিটারের সাহায্যে কিভাবে একটি গগণচুম্বী বহুতল ভবনের উচ্চতা নির্ণয় করা সম্ভব?’ বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী নীলস বোর ছিলেন এই পরীক্ষার একজন ছাত্র। তিনি অনেকটা হেয়ালি বশেই উত্তর লিখেছিলেন এমনটা:
‘আমাদেরকে ব্যারোমিটারের মাথায় একটা দড়ি বাধতে হবে। এরপর ব্যারোমিটারটিকে ভবনের ছাদ থেকে নিচে মাটি পর্যন্ত নামাতে হবে। তারপর ব্যারোমিটারের দৈর্ঘ্য আর দড়ির দৈর্ঘ্য যোগ করলেই ভবনের উচ্চতা পাওয়া যাবে।’
কিন্তু পরীক্ষার উত্তরপত্র দেখার সময় এই অযাচিত উত্তর পরীক্ষককে এমন রাগিয়ে দিল যে তিনি তৎক্ষণাৎ বোরকে ফেল করিয়ে দিলেন। এরপর বোর যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আবেদন করল যে তার উত্তরটি সম্পূর্ণ ঠিক ছিল, তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সুরাহা করার জন্য একজন নিরপেক্ষ বিচারক নিয়োগ করলেন ।
বিচারক পুনরায় উত্তরপত্র দেখলেন। উত্তরটি সম্পূর্ণ ঠিক থাকলেও পদার্থবিজ্ঞানের কোন উল্লেখযোগ্য জ্ঞান উত্তটির মাঝে ছিল না। তাই এবারে তিনি বোরকে সামনে ডাকলেন এবং তাকে ছয় মিনিট সময় দিলেন। এই সময়ের মধ্যে তাকে মৌখিকভাবে প্রশ্নটির এমন উত্তর দিতে হবে যার সাথে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নীতিগুলির নূন্যতম সম্পর্ক থাকবে।
বোর বিচারকের সামনে চুপচাপ বসে চিন্তা করতে লাগল। বিচারক তাকে সতর্ক করে দিলেন যে তার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। বোর বিচারককে জানাল, তার কাছে বেশ কয়েকটি উত্তর রয়েছে, কিন্তু সে ঠিক করতে পারছে না কোন উত্তরটি তাকে বলবে। বিচারক এতো কিছু আমলে না নিয়ে তাকে দ্রুত উত্তর দিতে বলল।
বিশদভাবে বর্ণনা করতে গিয়ে বোর বলল:
‘প্রথমত আপনি ব্যারোমিটারটা নিয়ে ছাদে উঠবেন, এরপর ছাদের সীমানা থেকে ব্যারোমিটারটা ছেড়ে দিবেন, যদিও ব্যারোমিটারটারের আয়ু শেষ হয়ে যাবে এবং হিসাব করবেন মাটিতে পড়তে ব্যারোমিটারটির কতটুকু সময় লাগল। এরপর h=(0.5)*g*(t)^2 সূত্রটির সাহায্যে আপনি ভবনের উচ্চতা মেপে ফেলতে পারবেন।’
‘অথবা যদি রোদ থাকে তাহলে ব্যারোমিটারটার দৈঘ্য মাপবেন। এরপর ব্যারোমিটারটাকে দাড়া করিয়ে এর ছায়ার দৈঘ্য মাপবেন। এরপর ভবনের ছায়ার দৈর্ঘ্য মাপবেন এবং অনুপাতের ধারণা ব্যাবহার করে কিছুটা হিসাব কষলেই ভবনের উচ্চতা পেয়ে যাবেন।’
‘আবার বিজ্ঞানের সূত্র এতটু বেশি প্রয়োগ করতে চাইলে আপনি ব্যারোমিটারের মাথায় ছোট একটা সুতা বেধে প্রথমে মাটিতে পরে ভবনের ছাদে পেন্ডুলামের মত দোলাবেন এবং এইক্ষেত্রে অভিকর্ষ বলের সংরক্ষণশীলতার কারণে T=2*π*sqrt(l/ g) সূত্র থেকে ভবনের উচ্চতা বের করতে পারবেন।’
‘অথবা যদি ভবনটির কোন বহিঃস্থ জরুরী নির্গমন সিড়ি থাকে তাহলে আপনি সেখানে যেয়ে ব্যারোমিটারের দৈঘ্য অনুযায়ী ব্যারোমিটার দিয়ে মেপে মেপে ভবনের উচ্চতা বের করে ফেলতে পারেন।’
‘আর আপনি যদি একান্তই প্রথাগত এবং বিরক্তিকর পথ অনুসরণ করতে চান তাহলে, প্রথমে ব্যারোমিটারটা দিয়ে ছাদের উপর বায়ুচাপ এবং এরপর মাটিতে বায়ুচাপ মাপবেন। এরপর বায়ুচাপের পার্থক্য হিসেব করে ভবনের উচ্চতা পেতে পারেন।’
ছাত্রের এমন চমকপ্রদ উত্তরের পরে বিচারকের বিস্ময়ে নির্বাক হয়ে বসে থাকা ছাড়া উপায় ছিল না।


নীলস বোর
(পাতাটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet