অ্যাবেল পুরষ্কার

বিজ্ঞানের সব গুরুত্বপূর্ণ শাখায় নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হলেও গণিতে কোন নোবেল পুরষ্কার নেই। তবে সমসাময়িক যে পুরষ্কারটিকে গণিতের জন্য নোবেল হিসেবে বিবেচনা করা হয় সেটি হল অ্যাবেল পুরষ্কার। নরওয়ের গণিতবিদ নীলস হেনরিক অ্যাবেলের নামানুসারে এই পুরষ্কারটির নামকরণ করা হয়েছে, যা নরওয়ের রাজা কর্তৃক প্রদান করা হয়।
নোবেল পুরষ্কারের তালিকায় গণিত অন্তর্ভুক্ত না থাকায় গণিতবিদ সপাস লী সর্বপ্রথম ১৮৯৯ সালে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বিশুদ্ধ গণিতে অ্যাবেল পুরষ্কার প্রদানের প্রস্তাব করেন। হেনরিক অ্যাবেলের ১০০ তম জন্মবার্ষিকীতে অর্থাৎ ১৯০২ সাল থেকে এই পুরষ্কার প্রচলনের প্রস্তাবনা করেন তিনি। রাজা দ্বিতীয় অস্কার এই প্রস্তাবনায় সমর্থন দিলেও কিন্তু তৎকালীন নানা জটিলতায় প্রস্তাবনাটি আর বাস্তবায়িত হতে পারেনি। এর প্রায় একশ বছর পরে নরওয়ে সরকার অ্যাবেলের ২০০ তম জন্মবার্ষিকীতে অর্থাৎ ২০০২ সালে এই পুরষ্কার দেয়ার ঘোষণা দেন এবং ২০০৩ সালে প্রথমবারের মত অ্যাবেল পুরষ্কারটি দেয়া হয় ।
নরওয়ের গণিতবিদ নীলস হেনরিক অ্যাবেলপ্রতি বছর মার্চ মাসে নরওয়ের সাইন্স একাডেমী পুরষ্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে । পাঁচ জন আন্তর্জাতিক গণিতবিদের সমন্বয়ে অ্যাবেল কমিটি গঠন করা হয় । এই কমিটি পরিচালনা করেন নরওয়ের একজন গণিতবিদ রাজনি পিনি এবং কমিটির সদস্যদের নির্বাচন করে থাকে আন্তর্জাতিক গণিত সংঘ ও ইউরোপীয় গণিত সংঘ। এই কমিটির প্রত্যেকেই নিজেকে ছাড়া একজনকে মনোনয়ন দিতে পারেন, তবে মনোনয়ন প্রাপ্ত ব্যক্তি অবশ্যই জীবিত হতে হবে। যদি পুরষ্কারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর মারা যান তবে তাকে মরণোত্তর পুরষ্কার দেয়া হয় । এক বা একাধিক ব্যক্তিকে এই পুরষ্কার প্রদান করা হয়।


অ্যাবেল পুরষ্কার
(পাতাটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet