আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু

- অতীতের ক্রটি সম্পূর্ণ মুছিয়া না ফেলিলে কোন নূতন প্রচেষ্টা একেবারেই অসম্ভব।
সাহিত্য-পরিষদের সভাপতির অভিভাষণ, ১৯১৮

- পৃথিবীর বহুদেশে ভ্রমণ করিয়া আমি ইহা উপলব্ধি করিয়াছি যে, আমদের সমুদয় শিক্ষা-দীক্ষা কেবল মনুষ্যত্বলাভের উদ্দেশ্যে মাত্র। কি করিয়া আমরা দুর্ব্বলের ক্রন্দন ও স্ত্রীজনসুলভ মান অভিমান ও আব্দার ত্যাগ করিয়া পুরুষোচিত শক্তিবলে স্বহসে- স্বীয় অদৃষ্ট গঠন করিতে পারি, তাহাই যেন আমাদের একমাত্র সাধনা হয়।
বোধন, অব্যক্ত

- আমার জীবনে যদি কোন সফলতা দেখিয়া থাকেন তবে জানিবেন, তাহা সর্ব্বদা নিজেকে আঘাত করিয়া জাগ্রত রাখিবার ফলে। স্বপ্নের দিন চলিয়া গিয়াছে; যদি বাঁচিতে চাও তবে কশাঘাত করিয়া নিজেকে জাগ্রত রাখ।
জীবনসংগ্রাম, বোধন, অব্যক্ত

- আমাদের দেশে অল্পতেই লোকের মান ক্ষয় হয়। আমাদের দেশের ছাত্র, যাহারা আমেরিকা যাইয়া সেখানকার রীতি অনুসারে কোন কার্য্য হীন জ্ঞান করে নাই; এমন কি, দারোয়ানী করিয়া এবং বাসন ধুইয়া বহু কষ্টে শিক্ষালাভ করিয়াছে, এখানে আসিয়াই তাহারা প্রকৃত মনুষ্যত্ব ভুলিয়া বিদেশীর বাহ্য ধরন-ধারণ অবলম্বন করে। তখন তাঁহাদের পক্ষে অনেক কার্য্য অপমানকর মনে হয়।
শিল্পোদ্ধার, বোধন, অব্যক্ত

- দেহের মৃত্যুই আমাদের পক্ষে সর্ব্বাপেক্ষা ভয়াবহ নহে। ধ্বংসশীল শরীর মৃত্তিকায় মিশিয়া গেলেও জাতীয় আশা ও চিন্তা ধ্বংস হয় না। মানসিক শক্তির ধ্বংসই প্রকৃত মৃত্যু, তাহা একেবারে অশাহীন এবং চিরন্তন।
মানসিক শক্তির বিকাশ, বোধন, অব্যক্ত

- কেবল সহানুভূতি-শক্তিতেই আমাদের জীবনে প্রকৃত সত্য প্রতিভাত হয়।
আহত উদ্ভিদ, অব্যক্ত


আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু
(পাতাটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet